Tuesday, 28 August 2012

আটলান্টিকের পাড়ে গড়ে উঠা দাসত্ব ও Slave House গুলোর গল্প (পরের অংশ)

দাসবাণিজ্যে নিজেদের আধিপত্য নিয়ে পশ্চিমাদের মধ্যে হানহানির ইতিহাস আগেই বলেছি। Trade center গুলোতে আক্রমন, দখল, যুদ্ধ, মৃত্যু এগুলো যেন ছিলো তখনকার নিত্যদিনের ঘটনা। যেকারনে প্রতিটি Slave House গড়ে তোলা হয় দূর্গের ভেতরে অথবা এগুলোকে কেন্দ্র করে আশেপাশে গড়ে তোলা হয় দূর্গ। শত্রু পক্ষের অবাঞ্চিত দখল ঠেকাতে বসানো হয় বিশাল বিশাল কামান, প্রস্তুত রাখা হয় অগণিত গোলা।


[Goree Island, Senegal]


[Cape Coast Castle, Ghana]


[Cape Coast Castle, Ghana]


[Bunker at Goree Island, Senegal]

উপরের ছবি গুলো দেখে খুব সহজে অনুমান করা যায় যে, একসময় এই স্থান গুলোতে কি পরিমান আধিপত্যের লড়াই চলতো এবং কতটা লাভজনক হলে তবেই এক একটা অঞ্চল নিয়ে দিনের পর দিন এতটা হানাহানি চলতে পারে! দাসবাণিজ্য নিঃসন্দেহে একটি লাভজনক বাণিজ্য ছিলো। এ বাণিজ্যের প্রতেক্ষ সুবিধা ভোগ করে একদিকে যেমন সমৃদ্ধ হয়েছে দাস আমদানিকারক দেশগুলো, যার প্রথম সারিতেই আসে USA - তাদের শিল্প-কারখানা, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, বাঁধ, রেল যোগাযোগ মাধ্যম, বিভিন্ন খনি, সেচ ও কৃষি খাতে এই সকল দাসদের ‘রক্ত, অশ্রু এবং ঘাম’ ঝরিয়ে, অন্যদিকে তেমনি কাঁচা টাকার পাহাড় গড়েছে ইউরোপীয় শক্তিধর দেশগুলোর দাস পরিবহনকারী সংস্থা বা দাস ব্যবসায়ীরা, এসব প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদে ভরা অঞ্চলগুলোর, সম্পদ অবাধে লুঠ ও নিজ দেশে নিয়ে প্রক্রিয়াজাতকরণেও এখানকারই অসহায় মানুষগুলোকে চরমভাবে ব্যবহার করে। অর্থাৎ বলা যায় এসব অঞ্চলের সম্পদ ও মানুষ দুই নিয়ে গড়ে উঠে ছিলো পরাশক্তিধর দেশগুলোর এই রমরমা বাণিজ্য, যাকে ইউরোপ, আফ্রিকা এবং আমেরিকার মধ্যে ‘Triangular Trade’ বা ত্রিভূজিয় বাণিজ্য বলা হয়! শুধু এই বাণিজ্য কোনো লাভজনক পরিবর্তন আনতে পারেনি আফ্রিকার আটলান্টিকের ধারে টিকে থাকা এই দেশগুলোর নিজেদের ভাগ্যে। বরং শত শত বছর ধরে চলতে থাকা শোষণ ও বঞ্ছনায় দেশগুলো অর্থনৈতিক এবং সামাজিকভাবে পঙ্গু হয়ে যায় চিরতরে। 

উপরন্তু আধিপত্য দীর্ঘস্থায়ী করতে, এইসব এলাকার সম্পদের শোষণসহ দাসের যোগান নিশ্চিত রাখতে বৃটিশরা কৌশলে ছড়ায় আঞ্চলিক বিভিন্ন গোত্র গুলোর মধ্যে জাতিগত দ্বন্দ্ব, যা পরবর্তিতে ভয়ংকর রূপ নেয়। উল্লেখ্য আফ্রিকানদের দাসত্বের করুণ পরিনতির জন্য এসব অঞ্চলের তথাকথিত রাজা বা গোত্রপ্রধানরাও সমানভাবে দায়ী ছিলো, যারা সামান্য অর্থ ও সুযোগসুবিধার লোভে অথবা পশ্চিমা প্রভুদের খুশী রাখতে নিজ গোত্রের মানুষ তাদের হাতে তুলে দিত। মূলত সেই সকল গোত্র প্রধানদের হাতে রাখতেই বৃটিশরা তাদের এই ঘৃনিত কৌশল প্রয়োগ করে, যেমনটা তারা করেছিলো ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দু, মুসলিমদের ক্ষেত্রে। এখনো আফ্রিকার যেসব দেশ গুলোতে প্রচুর পরিমানে অর্থনৈতিক রিসোর্স আছে, বিশেষ করে খনিজ সম্পদে ভরা অঞ্চলগুলোতে জাতিগত দাঙ্গা চিরস্থায়ী, উদাহরন – অ্যাঙ্গোলা, মোজাম্বিক ইত্যাদি। অতএব বলা যায় অবাধ সম্ভবনা থাকা সত্ত্বেও এ অঞ্চলের দেশগুলো যে কাতারে ছিলো আজও সে কাতারেই রয়ে যায় বুকে নিয়ে জ্বলন্ত ক্ষত!



পশ্চিম আফ্রিকার দাসবাণিজ্যের পরিসংখ্যানের যে চিত্রটি পাওয়া যায় Juffureh Meseum এ, তাতে দেখানো হয়েছে ১৬৫০ থেকে ১৮৬০ সালের মধ্যে আনুমানিক ১৫ মিলিয়নের বেশী ‘জীবিত’ কৃতদাস পৌছায় South America, North America, Central America, West Indies এবং Europe এ । জীবিত বলার কারন হলো পরিসংখ্যানটিতে বলা হয় যাত্রাকালীন মৃতদের সংখ্যা অজানা, অথবা মৃতদের পরিসংখ্যান কোথাও রাখা হয় নাই। এছাড়াও সেখানে আরো বলা হয় এই রপ্তানিকৃত শ্রমিকদের মধ্যেও বেশির ভাগই পরে মারা যায় Carribbean, Central এবং South America য় কাজের কঠোরতা ও নিষ্ঠুর জীবনযাত্রা অবস্থার কারনে।

দাসের পিঠে গরম লোহার শিক দিয়ে চিহ্নিত করার ছবিটি যেমন অনেক কিছু বলে দেয়, তেমনি এটাও সত্য যে ছিলেন Harriet Beecher Stowe এর মতো লেখিকা, যিনি Uncle Tom's Cabin এ তাঁর মর্মস্পর্শী লেখনীর মাধ্যমে এই প্রথার বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন। ছিলেন Thomas Clarkson, Henry Brougham মত মানুষ, যাদের প্রচেষ্টায় গড়ে উঠে Anti Slave Society, ১৮২৩ সালে। ১৮৩৩ সালে Parliament of United Kingdom কতৃক Slavery Abolition Act আইনটি পাশের মাধ্যমে, দাসত্ব বন্ধের পাশাপাশি British Empire এর সকল দাসমুক্ত করা হয়। যদিও আইনটি মাঠপর্যায়ে সফলভাবে কার্যকর হতে লেগে যায় আরও অনেক বছর। আসে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনের নাম যিনি ১৮৬২ সালে Emancipation Proclamation নামে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তৎকালীন আমেরিকার সকল দাস মুক্তির ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে জীবিতদের কেউ কেউ ফিরে আসতে থাকে তাদের শেকড়ের সন্ধানে।


[Cape Coast Castle, Ghana]

Ghana সরকার পহেলা আগস্ট কে ‘বন্ধন মুক্তি’ Emancipation Day ঘোষণা করে। এবং পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা ঘানার কালো মানুষদের মুক্তির অনুভূতির সাথে ফিরে আসতে বলা হয়। তাদের ফিরে আসাকে উৎসাহিত করতে দূর্গের কুখ্যাত সে দরজা যার নাম ‘The Door of No Return’ তার বিপরীত দিকে লিখে দেয়া হয় ‘Door of Return’. এই Concept-টা যদিও ভালো তবে এটা সেসময় এই দরজা দিয়ে বের হয়ে যাওয়া প্রতিটি কালো মানুষের জন্য কতটা প্রযোজ্য প্রশ্ন থেকে যায়!


[Goree Island, Senegal]

Goree Island থেকে মৃত অথবা পাচারকৃত দাসদের প্রতি সন্মানে এই মিনারটি তৈরী করে পরবর্তীতে তাদেরই ফিরে আসা বা বেঁচে থাকা বংশধরেরা।


[Slavery Freedom Monument, Goree Island, Senegal]

যদিও পশ্চিমাদের পক্ষ থেকে প্রায় বলার চেষ্টা করা হয়, দাসপ্রথাকে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে। তারপরেও তাদেরই বড় বড় সব মহারথীদের, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের লক্ষ্যে এসব Slave House গুলোতে প্রায় আসতে দেখা যায়। Goree Island এ প্রেসিডেন্ট Bill Clinton আসেন ১৯৯৮ সালে, George W. Bush আসেন ২০০৩ সালে, যা তাদের আমেরিকার বিশাল কালো জনগোষ্ঠির সন্তুষ্টি ও সমর্থন পেতে সাহায্য করে।


[Goree Island, Senegal. Guns of Navarone মুভির একটি অংশ এখানে শুটিং করা হয় যেখানে Gregory Peck তাঁর সাথীদের নিয়ে পাহাড়ে উঠছে। মুভিটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত অতএব মূল আলোচনার সাথে অপ্রাসঙ্গিক।]


[Cape Coast Castle, Ghana. মৃতদের আত্মার শান্তিতে, ফিরে আসাদের শেকড়ের সন্ধানের কামনায় এবং এখানে ঘটে যাওয়া নির্মমতা তুলে ধরার প্রতিজ্ঞায় এই Plaque টি স্থাপন করা হয় দূর্গটির দেয়ালে।]


[Cape coast Castle, Ghana. President Barack Obama, slave house টি পরিদর্শনে এসে উপরের ফলকটি উন্মোচিত করেন ২০০৯ সালে।]

[Juffureh Museum, The Gambia – Sengbeh Pieh]

Sengbeh Pieh - একজন সফল বিদ্রোহী হিসাবে যাকে স্মরণ করা হয়। তাকে Sierra Leone থেকে পর্তুগীজরা আটক করে Cuba-য় Spanish দের কাছে বিক্রি করে ১৮৩৯ সালে। কিন্তু সে ও তার সঙ্গীরা সেখানে বিদ্রোহ করে দুজন crew কে জিম্মি করে Amistad নামের Spanish Slave Ship টি নিজেদের দখলে নিতে সক্ষম হন। এবং জিম্মিকৃত crew দের জাহাজটি Sierra Leone এর দিকে নিতে বাধ্য করে। এদিকে crew রা চালাকি করে তা Sierra Leone এর পরিবর্তে USA-র দিকে নিতে থাকে, সেখানে পুনরায় তাদের বন্দি করা হয়। কিন্ত ততদিনে আমেরিকাতে দাসত্ব বন্ধের আইন কার্যকর হওয়ায়, US আদালত জাহাজটিকে Sengbeh Pieh ও তার সঙ্গীদের সহ Sierra Leone ফিরিয়ে নিয়ে মুক্ত করতে নির্দেশ দেয়। Sengbeh Pieh পরিনত হয় Sierra Leone এর একজন কিংবদন্তি হিসাবে। তার বীরত্বকে সন্মানিত করতে Sierra Leone এর ৫০০০ টাকার নোটে তার ছবি ছাপানো হয়।


এখনো অজানা কজন খুঁজে পেয়েছে তার শেকড়ের ঠিকানা!

কেবল মানবতার দোহাই এই ঐতিহাসিক প্রথা বাতিলের একমাত্র কারন ছিলোনা, মূলত ব্যাপক হারে যন্ত্রের আবিষ্কার ছিলো এই প্রথা বন্ধের অন্যতম প্রকৃত কারন। অতএব বলা যায় সাদা চামড়ার আড়ালে সুবিধাবাদী আসল কালো মানুষ গুলো যখন দেখলো যন্ত্রের আবিষ্কার তাদের কাজকে সহজ করেছে কয়েকগুণ, এতদিন মানুষ দিয়ে যে কাজটি করানো হতো, এখন মেশিন সে কাজটি করছে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে ও সহজে, তখন দাস বাণিজ্যর মতো কষ্টকর এবং ব্যয়বহুল বিষয়টি অর্থহীন হয়ে পড়ে বটে।

এরিস্টটলের মত মণীষী যদি দাসপ্রথার বাস্তব এরূপ দেখতেন, তবে ‘প্রকৃতিগত ভাবেই মানুষ জন্মে প্রভূ হয়ে, নয়তবা দাস হয়ে’ এ নির্মম তত্ত্ব দিতে পারতেন কিনা! মানুষেরই কল্যাণে যে ধর্ম, সেগুলোতেও এপ্রথাকে কেন কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ করা হলো না, এসব প্রশ্ন আমার মনকে ক্ষত-বিক্ষত করেছে বার বার! বর্ণবাদ নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নাই, চাইনা নতুন করে বর্ণবাদ উস্কে দিতে। শুধু এটুকুই মেনে নিতে কষ্ট হয় যখন ইউরোপ, আমেরিকাসহ পৃথিবীর বড় বড় সব দেশ গুলোতে শীল্প, অর্থনীতি ও অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছিলো; এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো পৃথিবীর সভ্যতাকে কয়েক ধাপ উপরে, তখন সে সভ্যতারই বলি হচ্ছিলো এসব অসংখ্য অজানা নিরিহ প্রাণ, যাদের করুণ আর্তনাদ এখনও রয়ে গিয়েছে এই Slave House গুলোর শক্ত চার দেয়াল এর মধ্যে!

লেখাটা এখানেই শেষ করবো, আটলান্টিক এর পাড়ে গড়ে উঠা দাসত্বের গল্প কতটুকু বলতে পারলাম জানি না। যদিও আমার মনে হয় পৃথিবী সব স্থানের দাসত্বের কাহিনী বোধহয় অনেকটা একই, তবে এ স্থানগুলো বেশী গুরুত্ব পেয়েছিলো ক্যারিবীয় রুট থেকে যাতায়াতের সুবিধার কারণে। সবশেষে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক একটি ঘটনা যোগ করবো। Goree Island থেকে যখন ফিরছিলাম খানিকটা ভারাক্রান্ত মন নিয়ে, তখন Dakar পোর্টের কাছে এই ‘বাংলার কাকলি’ আমাদের (এক সাথে পরিদর্শনে আসা আর এক বাঙালী পরিবার) সবার মুখে হাসি ফুটিয়েছিলো একসাথে, মুহূর্তের মধ্যে যেন আমরা ভুলে যাই কতটা বিস্ময়কর স্তব্ধতা নিয়ে ফিরছিলাম island টি থেকে! সৃষ্টিকর্তা বোধহয় সবাইকেই তার উপলদ্ধি যাচাইয়ের সুযোগ করে দেয়, যেমনটি আচমকা এই জাহাজটি দেখে আমাদের পুনরায় উপলদ্ধি হয় যে মানুষের কাছে কতটা প্রিয় হতে পারে তার নিজের মাতৃভূমি! সমবেদনা যেন আরও বাড়ল তাঁদের প্রতি যাদের হাতে পায়ে সেকল বেঁধে চিরদিনের জন্য বিছিন্ন করা হয়েছিল নিজের মাতৃভূমি থেকে!


[আচমকাই Dakar Port দেখতে পাওয়া বাংলাদেশী জাহাজ।]

---------------------------------------------------------------------

আটলান্টিকের পাড়ে গড়ে উঠা দাসত্ব ও Slave House গুলোর গল্প

আফ্রিকার ইতিহাসের একটা বিশাল অংশ জুড়ে আছে মূলত দাসত্ব, যদিও এটা আমাদের সবার জানা। তবুও এই প্রথার ভেতরে থাকা প্রকৃত বাস্তবতার চিত্র এখনও রয়েছে আমাদের অনেকের চোখের আড়ালে, এখানকার কিছু Slave House এবং এগুলোর ভেতরের ইতিহাস কিছুটা কাছ থেকে উপলদ্ধি করে অন্তত আমার তাই মনে হয়েছে। আর সেকারনেই আমার দেখা Slave House বা Slave Trade Center গুলো নিয়ে লিখার ইচ্ছাটা আমার অনেক দিনের, যদিও কখনই সময় করে উঠতে পারি নাই। ছবিগুলো দেখে কোথায় যেন একটা অপরাধবোধ জাগে, যেন কিছু একটা করার কথা ছিলো, কিন্তু হয় নাই! পুরনো সেই ইচ্ছাটা আবার মাথায় চেপে বসে, নাহ! আর সময় নষ্ট না! তাই উঠেপড়ে লাগলাম, আমার মূল উদ্দেশ্য Slave House গুলোর ভেতরে থাকা, দাসত্বের এর প্রকৃত রূপ তুলে ধরা।
পৃথিবীর প্রতিটি স্থানেরই নিজস্ব গল্প আছে, আছে নিজস্ব গন্ধ এবং পরিচিতি। আটলান্টিকের বুকে জেগে থাকা এই ছোট ছোট দ্বীপ ও কোস্টাল এরিয়া গুলো শত শত বছর ধরে হাজারো নির্মমতার গল্প বয়ে বেড়াচ্ছে, যেগুলো মূলত ব্যবহার করা হতো একসময় slave trade center হিসেবে।


[James Island, Juffureh, The Gambia]

James Island, Juffureh, The Gambia - যেখান থেকে পাচারকৃত অসংখ্য ক্রীতদাসের মধ্যে Kunta Kinte একজন। তাকে আনুমানিক ১৭৬৭ সালের দিকে Juffureh অঞ্চল থেকে বন্দি এবং পাচার করা হয়। পরবর্তীতে তারই বংশধর Alex Haley একটি বিখ্যাত উপন্যাস লিখেন, Kunta Kinte র জীবন অবলম্বনে, The Roots।


[James Island, Juffureh, The Gambia]

যদিও দ্বীপটির মূল আয়তনের অধিকাংশই ক্ষয়ে গেছে লবনাক্ত পানিতে, slave house টিও ভেঙ্গে পড়েছে। তারপরেও দীর্ঘকাল ধরে মানুষের প্রতি করা মানুষেরই অকল্পীয় বর্বরতা এবং নির্যাতনের ছাপ এখনও যেন জীবন্তই রয়ে গেছে।


[Goree Island, Dakar, Senegal]

আয়তনে ক্ষুদ্র হলেও এই দ্বীপটি আমেরিকা থেকে আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে কাছের পয়েন্ট হওয়ায়, অবস্থানগত কারণে দাস বাণিজ্যে বিশাল ঐতিহাসিক গুরুত্ব রাখে। Goree Island এ পর্তুগীজরা প্রথম দাস বাণিজ্য শুরু করে ১৫৩৬ সাল থেকে। দ্বীপটির উপর নজর পড়তে থাকে অন্যান্য পশ্চিমা পরাশক্তি গুলোর। ১৫৮৮ সালে United Netherlands দ্বীপটি দখল নেয়, তারপর আবার Portuguese, আবার Dutch, দখল পাল্টা দখল চলতে থাকে। British রা দখল নেয় ১৬৬৪ সালে। এবং সবশেষে Frence রা তাদের শক্ত খুঁটি গাঁড়ে। ১৬৭৭ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ Senegal স্বাধীণ হবার আগ পর্যন্ত এখানে French কলোনি বজায় ছিলো।


[Goree Island, Dakar, Senegal]

প্রায় ৩০০ বছরের অধিক সময় ধরে নির্বিচারে এখান থেকে আনুমানিক ২০ মিলিয়ন নারী, পুরুষ ও শিশু পাচার করা হয় আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। যাদের বেশির ভাগকেই এখানে ধরে আনা হতো ওয়েস্ট আফ্রিকার দেশগুলো থেকে। Island টি ১৯৭৮ সালে UNESCO কতৃক World Heritage Site এ অন্তভুক্ত করা হয়। অনেক প্রশাসনিক ও আবাসিক ভবন পরিবর্তিত হয় হোটেলে।


[Cape Coast Castle, Accra, Ghana]

দূর্গটি ১৬৫০ এর দিকে Swedish দের দারা নির্মিত হয় মূলত এ অঞ্চলের কাঠ ও স্বর্ণ রপ্তানির উদ্দেশে। প্রচুর পরিমানে প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদে ভরা এ অঞ্চলটি নিয়ে ইউরোপীয় শুক্তিধর দেশগুলোর হানাহানির ইতিহাস অনেক দীর্ঘ। একাধিক বার Dutch, Portuguese, Swedish ও British দের দ্বারা দখল পাল্টাদখলের পর, অবশেষে সবাইকে তাড়িয়ে castle টিতে বৃটিশরাই স্থায়ী আসন গেঁড়ে বসতে সক্ষম হয়। Castle টির নিচে ভূগর্ভস্থ ভয়ংকর Slave House টি প্রথম দিকে তৈরী করা হয় খনি ও কাঁচামাল উত্তোলন এবং রপ্তানীতে ব্যবহৃত দাসদের রাখার জন্য। পরবর্তীতে ব্রিটিশরা এখানে পাকাপাকি ভাবে দাস রপ্তানি বাণিজ্য যোগকরে এবং যা চলতে থাকে ১৬৬৫ থেকে ১৮০৭ সাল পর্যুন্ত। Cape Coast Castle এর এই Slave House টিকে নরকের সাথে তুলনা করা হয়, ভূগর্ভস্থ হওয়ায় সেখানে দিন-রাতের কোনো তফাৎ ছিলো না, ছিলো না বাতাস সঞ্চলনের কোনো ব্যবস্থা। যেকারনে সেখানে অকল্পনীয় সংখ্যক ক্রীতদাসের মৃত্যু হয়েছে শুধু দূষিত বাতাসে দম বন্ধ হয়ে অথবা আলো ও অক্সিজেন এর অভাবে! এখানে ধরে আনা বেশীর ভাগ আফ্রিকানকে পাঠানো হতো America, Caribbean অথবা European দেশ গুলোতে। Cape Coast Castle থেকে ৬ মাইল দুরে পর্তুগীজদের আর একটা দূর্গ আছে প্রায় একি আদলে তৈরী, সেখানকার Slave House টি থেকেও দাস বাণিজ্য চলতো সমানভাবে। ১৯৭৯ সালে Ghana র এইসব দূর্গ ও Slave House গুলো ইউনেসকো কতৃক World Heritage List এ আনা হয়।

ছোট ছোট গ্রাম ও গোত্র থেকে মূলত গোত্রপতিদের সহায়তায় অথবা বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বন্দি করে দাসদের জোগাড় করা হতো। Cape Coast Castle এর Slave House টিতে আফ্রিকানদের জোগাড় করা হতো স্থানীয় গোত্র প্রধান অর্থাৎ যারা সেখানকার অধিকাংশ অঞ্চল গুলো নিয়ন্ত্রন করতো তাদের সহায়তায়, তারা ব্রিটিশ প্রভুদের সাথে করা চুক্তি মোতাবেক প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর ১০০০ পুরুষ ও ৩০০ মহিলার যোগন দিত। এভাবেই এদের এনে জড়ো করা হতো এসব slave house গুলোতে। তাদের বেঁধে রাখা হতো হাতে, পায়ে এমনকি গলায় লোহার শেকল দিয়ে।


[National Museum, Banjul, The Gambia থেকে নেয়া চিত্র - যেভাবে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দাসদের বন্দি করে নিয়ে আসা হতো।]


[National Museum, Banjul, The Gambia থেকে নেয়া চিত্র – দাসদের পরিবহনের জন্য যেভাবে Slave Ship এ ভরা হত।]

বন্দিকৃত দাসদের ছোট ছোট কার্গো বা Slave Ship এ ভরা হত পরিবহনের জন্যে। স্থল থেকে Trade Center গুলোতে, এবং Trade Centre গুলো থেকে গন্তবে নিতে এইসব Slave Ship ব্যবহার করা হতো। ব্যবসায়ীরা পরিবহন খরচ বাচাতে, তৎকালীন ক্রমবর্ধমান শ্রমবাজারে দাসের চাহিদা পূরণে ও অধিক মুনাফার লোভে একবারে যত বেশী সম্ভব দাস নেয়া যায়, সে চেষ্টাই করতো।


[National Museum, Banjul, The Gambia থেকে নেয়া চিত্র – কৃতদাসদের পরিবহনে ব্যবহৃত নৌকা বা Slave Ship.]

এরকম একটা ছোট কার্গোতে কমপক্ষে ৬০ থেকে ৯০ জনকে পরিবহন করা হত। দাসদের এতটাই ঠাসাঠাসি করে ভরা হত যে, “অনেকটা গুদামে ভরার মত, সেই কষ্ট বর্ণনা করা অসম্ভব। তাঁদের সামান্য নড়াচড়ার অবস্থা থাকতোনা। অসহ্য গরমে তারা চিৎকার করত এবং অজ্ঞান হয়ে পড়তো। পানির জন্য তাদের অবস্থা মৃতপ্রায় হয়ে যেত। অবস্থা আরও খারাপ হতো বর্ষাকালে, যেখানে নৌকাগুলোতে তাদের ঢাকবার কোনো ব্যবস্থা থাকতো না, অথচ সেখানে গোলা ঢাকবার তেরপল থাকতো। এমন অবস্থায় দম নেয়ার জন্যে তারা ছটফট করতে থাকতো” - Thomas Clarkson, Essay on the Slave Trade (1789). এভাবেই তাদের যাত্রা চলতে থাকতো দিনের পর দিন কখনো ২ থেকে ৩ মাস। অবশেষে যারা টিকে থাকতো তারা গন্তব্যে পৌঁছাত। আর কতজনের শেষ গন্তব্য যে আটলান্টিক এর বিশালতায় হয়েছিলো সে সংখ্যা সবার অজানা।


[National Museum, Banjul, The Gambia থেকে নেয়া চিত্র – বিদ্রোহ]

যারা যেতে অস্বীকৃতি জানাত অথবা বিদ্রোহ করতো, তাদের উপর চালানো হতো পাশবিক নির্যাতন, তাদের হাত পা কেটে আলাদা করে ফেলা হতো, সাধারনত এমন করা হতো বাকীদের ভয় দেখনোর জন্যে - Thomas Phillips, A Journal of a Voyage (1746). Thomas Phillips ছিলেন একজন slave ship এর captain, এরকম একাধিক বর্বরতার কথা তিনি A Journal of a Voyage এ লিখে রাখেন।


[National Museum, Banjul, The Gambia থেকে নেয়া চিত্র - ভাস্কর্য]

একই পরিবারের নারী, পুরুষ এবং তাদের সন্তান পর্যন্ত ধরে এনে slave house এর ভিন্ন ভিন্ন ঘরে আটকে রাখা হতো। তারপর সেখান থেকে তাদের এক এক সময় এক এক জন কে পাঠানো হতো পৃথিবীর ভিন্ন প্রান্তে। অর্থাৎ জীবনের বাকী সময়টা তারা একে অন্যের খোঁজ পেতনা। বিষয়টা কতটা নির্মম ছিলো তা একটু চিন্তা করলে বোঝা যায়, হয়ত একই slave house এর এক ঘরে বাবা, এক ঘরে মা, আর এক ঘরে সন্তান কে আটকে রাখা হয়েছে। কিন্তু তারা কেউ কাউকে দেখতে পর্যন্ত পাচ্ছে না, জানতেও পাচ্ছেনা কি ঘটছে তাদের অতি প্রিয় মানুষটির সাথে!

প্রায় প্রতিটি slave house এর মধ্যে থাকত নারী, পুরুষ এবং শিশু দের রাখার আলাদা আলাদা dungeon বা কক্ষ। এগুলোর বেশির ভাগেরই কোন জানালা থাকতো না, মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত শক্ত পাথরের তৈরি, থাকতো না বসা বা শোয়ার কোন ব্যবস্থা, থাকতো না পয়ঃনিষ্কাশনের কোনো সুষ্ঠু ব্যবস্থার । এক একটা কক্ষে গাদাগাদি করে দাসদের এনে রাখা হতো, তাদের হাত পা বাঁধা থাকত শেকল দিয়ে, বেঁচে থাকার জন্যে dorm এর উপরের দিকে থাকা ফুটো দিয়ে নাম মাত্র খাবার ফেলে দেয়া হত। এছাড়াও অবাধ্যদের শাস্তির জন্যে থাকতো অন্ধকার দমবন্ধ করা একদম ছোট্ট সেল, যার ভেতরে থাকার অনুভূতি সাথে আসলে কেবল কবর এর তুলনা দেয়া চলে। শিশুদের নেয়ার ব্যাপারে ঠিক কত বছর সর্বনিম্ন ছিল, বা আদৌ কোন নিয়ম ছিল কিনা জানিনা। কারন Goree Island এর slave house টিতে ২/৩ থেকে ৬ বছর, এবং ৬ থেকে ১২ বছর এর ইনফ্যান্ট এর জন্যে আলাদা dungeon দেখেছি।


[Cape Coast Castle, Ghana. পুরুষ ক্রীতদাস রাখার কক্ষ, সামনে guide।]

মাটির নিচের এই Slave House টিতে পুরুষ দের রাখার জন্যে ৫ টি ও নারী দের রাখার ২ টি Dungeon আছে, যেগুলো দেখতে অনেকটা আদিমকালের গুহার মতো। এগুলোর এক একটাতে প্রায় ২০০ জন করে ক্রীতদাস আটকে রাখা হতো। বর্তমানে পর্যটকদের দেখার সুবিধার জন্যে রুমগুলোর ভেতর বৈদ্যুতিক বাল্ব লাগানো হয়েছে, যা এগুলোর ভেতরে থাকা অন্ধকার যেন আরও বাড়িয়েছে!


[Cape Coast Castle, Ghana. মেয়ে ক্রীতদাসদের রাখার কক্ষ।]

মেয়েদের প্রভুরা সাধারনত তাদের যৌন চাহিদা পূরণে ব্যবহার করতো। slave house গুলোর headmen বা অফিসার, কমান্ডারদের দ্বারা নারী ও শিশুর উপর যৌন নির্যাতন একটা স্বাভাবিক ঘটনা ছিল। Ghana-র Cape Coast Castle, slave house টিতে মেয়ে ক্রীতদাসদের ধর্ষণ এবং নির্যাতনের এর জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান ছিলো। Goree Island এ একটা মজার নিয়ম ছিলো যে কোন মেয়ে যদি সাদা প্রভুদের দ্বারা গর্ভবতী হয়ে পরতো তখন তাকে সেই island এই ছেড়ে দেয়া বা মুক্তি দেয়া হতো। দাসত্বের ভয়াবহতার থেকে মুক্তির আশায় বরং সাদা প্রভুদের দ্বারা গর্ভবতী হওয়াও সেসব দাস মেয়েদের কাম্য ছিলো।


[Maison des Esclaves, Goree Island, Senega. শিশুদের রাখার কক্ষের সামনে আমদের guide।]


[Maison des Esclaves, Goree Island, Senegal]

অবাধ্যদের শাস্তির জন্য সেল। প্রতিটি Slave House এই অবাধ্য বা বিদ্রোহীদের শাস্তির জন্য এরকম সেল থাকতো। এই ছোট্ট গুমোট সেলটিতে এক সাথে ২০ জনকে পর্যন্ত আটকে রেখে শাস্তি দেয়া হতো, যাদের বেশির ভাগেরই মৃত্যু হতো দম বন্ধ হয়ে। Nelson Mandela তাঁর Goree Island সফরে এই সেলটি তে নিজেকে ৫ মিনিট এর মতো অবরুদ্ধ রাখেন, এবং বেরহয়ে তিনি অঝরে কেঁদেছিলেন সেই সব হতভাগ্যদের সাথে ঘটে যাওয়া অসহনীয় নির্মমতা উপলদ্ধি করে!

দাসদের দাম নির্ভর করত প্রধানত তাদের ওজনের উপর। যার বয়স যত কম এবং ওজন বেশী তাকে ততবেশী দামে বিক্রি করা হতো। আমাদের দেশে কোরবানীর হাটের মত একসময় এসব slave trade center গুলোতে হতো মানুষের হাট। বিভিন্ন জায়গা থেকে পণ্যের মত জড় করা হতো মানুষ, প্রদর্শিত হতো কেনাবেচার জন্যে। চিহ্নিত করার জন্যে তাদের গায়ে দেয়া হতো গরম লোহার সীল। বিদেশি বণিকরা আসত দাসদের বাণিজ্য করতে, পণ্যের মতই দাসদের গা টিপে দেখে যাছাই-বাছাই করে জাহাজ ভরে তারা মানুষ এর সওদা করে নিয়ে যেত।


[James Island, Juffureh, The Gambia - যে স্থানটি একসময় প্রকৃতই ছিল মানুষ বেচা-কেনার হাট! এটি ছিলো দ্বীপটির Slave yard]


[Accra Museam থেকে নেয়া চিত্র - দাসদের চিহ্নিত করতে ব্যবহৃত লোহার সীল! ]

অসুস্থ অথবা দুর্বলদের এতটাই অপ্রয়জনীয় মনে করা হতো যে, তাদের হাতে-পায়ে শিকল বেঁধে ফেলে দেয়া হতো সাগরে, সাথে পায়ে অথবা গলায় বেঁধে দেয়া হত ৫ কিলগ্রাম ওজনের গোলা। এই কারনে সহজ শিকার এর আশায় এই slave house গুলোর আশেপাশে হাঙ্গর ঘুরাফেরা করতো সবসময় এবং পানিতে তলাবার আগেই হয়তো সেই সব হতভাগ্য দের করুন পরিনতি হত হাঙ্গরের হিংস্রতায়। বস্তুত গাদাগাদি করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকা, খাদ্য ও চিকিৎসার অভাব, পয়ঃনিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থার অভাবে অধিকাংশ দাসই অসুস্থ হয়ে পড়তো, আর চিকিৎসার চেয়ে তাদের হাঙ্গরের খাদ্য হিসাবে সাগরে ফেলে দেয়াই সহজ সমাধান ছিলো দাস প্রভুদের জন্যে। এছাড়াও ছিল এসব অঞ্চলে নানা রকম প্রাকৃতিক রোগবালাই যেগুলোর মধ্যে ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর, গুটিবসন্ত ছাড়াও আরও নানা প্রকার জ্বরের প্রকোপ ছিলো অত্যন্ত বেশী। ফলে উল্লেখজনক হারে দাসদের প্রান হানি ঘটতো এই সব মহামারীর কারণেও। অবশ্য এই সব আফ্রিকান আঞ্চলিক প্রাণনাশক জ্বরের বিপক্ষে টিকে থাকা দুষ্কর হয়ে যেত পশ্চিমা দাস প্রভুদের পক্ষেও।


[Cape Coast Castle, Ghana]

ছবিতে যে সরু নালাটি দেখা যাচ্ছে মুলত তা ছিলো dungeon টির একমাত্র পয়ঃনিষ্কাশনের পথ, অর্থাৎ এই কক্ষে প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর ২০০ জনের বর্জের জন্য রাখা হয় এই উন্মুক্ত সরু নালাটি, যা দেখে সহজে অনুমান করা যায় ব্যাপারটি কতটা অস্বাস্থ্যকর ছিলো। পরবর্তিতে এই নালার মাটি পরীক্ষা করে দেখা যায় সেখানে খাদ্য, মল-মুত্র, রক্ত ও পুঁজ মিশ্রিত!


[The Door of No Return, Maison des Esclaves, Goree Island]

প্রতিটি slave house এ The Door of No Return নামে একটা দরজা থাকত। এই দরজার তাৎপর্য হলো slave house এ আনা প্রতিটি দাসকে অবশেষে এই একটি দরজা দিয়েই বের করা হবে, হয় জাহাজযোগে অজানার পথে নয়তবা সাগরে নিক্ষিপ্ত হয়ে সলিল সমাধিতে! The Door of No Return নামের অর্থ হলো যাকে একবার এই দরজা দিয়ে বের করা হবে সে আর কখনই ফিরতে পারবেনা তার প্রিয় জন্মভূমিতে আপনজনের কাছে! ১৯৮১ সালে France এর প্রধানমন্ত্রী Michel Rocard, Goree Island এর এই Door of No Return এর সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, “It is not easy for a white man, in all honesty, to visit this Slave House without feeling ill-at-case.”

-----------------------------------------------------------------------